খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগের মহাবিপর্যয়: ডাইনোসর বিলুপ্তির পরও যেভাবে টিকে ছিল কিছু প্রাণী

Super Admin
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগের মহাবিপর্যয়: ডাইনোসর বিলুপ্তির পরও যেভাবে টিকে ছিল কিছু প্রাণী

প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার প্রশস্ত গ্রহাণুর আঘাতের পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে যায়

আজ থেকে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর পূর্বে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়েছিল এক বিশাল গ্রহাণু। এর আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এক চরম ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসে। সংঘর্ষের ফলে প্রচণ্ড উত্তপ্ত পাথরের খণ্ড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা আকাশে এক বিশাল মাশরুম মেঘের সৃষ্টি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা প্রায় ২২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। মেক্সিকো উপসাগর থেকে মাইলের পর মাইল উঁচু সুনামি ঢেউ পৃথিবীর মহাসাগরগুলোকে ওলট-পালট করে দেয়। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে দাবানল, যা বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, উদ্ভিদ ও অসংখ্য প্রাণীকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। তীব্র শক ওয়েভ সবকিছু চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল।

এই প্রাথমিক ধাক্কার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সংঘর্ষের ফলে নির্গত সালফার ও অন্যান্য ক্ষতিকর কণা বায়ুমণ্ডলের উঁচুতে উঠে সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেয়, যার ফলস্বরূপ শুরু হয় বিষাক্ত অ্যাসিড বৃষ্টি। প্রায় এক দশক ধরে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে না পারায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং অধিকাংশ গাছপালা মারা যায়। এই মহাবিপর্যয়ের ধাক্কা সামলাতে না পেরে উড়ন্ত পাখি ব্যতীত ডাইনোসরসহ পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে প্রশ্ন জাগে, এমন চরম প্রতিকূল পরিবেশেও পাখি, কচ্ছপ বা স্তন্যপায়ীর মতো কিছু প্রাণী কীভাবে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছিল?

বিজ্ঞানীরা জানান, সেই ভয়াবহ দিনে প্রাণীদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তাদের আকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। টাইরানোসরাস রেক্স বা ট্রাইসেরাটপসের মতো বিশাল আকৃতির ডাইনোসর এবং সাগরের দানবীয় সরীসৃপগুলো গ্রহাণুর আঘাতের মুহূর্ত থেকেই মারা যেতে শুরু করে। এদের বিশাল শরীরের কারণে প্রাথমিক বিস্ফোরণের ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হয়নি, এবং মহাবিপদের সময় কোনো নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে থাকার সুযোগও ছিল না। উপরন্তু, সংকটের সময়ে টিকে থাকার জন্য এদের যে বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন ছিল, তা প্রকৃতিতে অবশিষ্ট ছিল না।

অন্যদিকে, ডাইনোসরদের রাজত্বকালে যেসব স্তন্যপায়ী প্রাণী বা টিকটিকি টিকে গিয়েছিল, এদের আকার ছিল বড়জোর একটি সাধারণ বেজির মতো। এই ছোট আকারের কারণেই তারা মাটির নিচে বা পাথরের খাঁজে গর্ত খুঁড়ে আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়েছিল, যা তাদের গ্রহাণুর তাত্ক্ষণিক আগুন এবং দীর্ঘমেয়াদী ধুলার ঝড় থেকে বাঁচিয়ে দেয়। কচ্ছপ বা মাছের মতো ছোট জলজ প্রাণীরা পানিতে আশ্রয় নিয়েছিল এবং তাদের খুব কম খাবারের প্রয়োজন হওয়ায় তারা অনাহার থেকে রক্ষা পায়।

বর্তমান পাখিদের পূর্বপুরুষেরা সেই কঠিন সময়ে টিকে গিয়েছিল মূলত তাদের ছোট শরীর এবং উড়ার ক্ষমতার কারণে। তাদের ডানার পেশি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে যেকোনো বিপদ দেখলেই তারা দ্রুত উড়ে দূরে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারত এবং সহজেই নতুন খাবারের সন্ধান পেত। এছাড়া, তাদের ছানারাও খুব দ্রুত বড় ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠত, ফলে মা-বাবাকে দীর্ঘকাল ধরে বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য অতিরিক্ত কষ্ট করতে হতো না। এই অসাধারণ গুণাবলির কারণেই শত বিপদের মধ্যেও তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

ধ্বংসযজ্ঞের পর প্রাণীদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে খাদ্যাভ্যাসও একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল। গ্রহাণুর আঘাতের পর প্রায় এক দশক ধরে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে না পারায় সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে অধিকাংশ গাছপালা মারা যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে তৃণভোজী ডাইনোসর এবং তাদের শিকার করা মাংসাশী ডাইনোসরদের ওপর। খাবারের অভাবে তারা দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যায়। এমনকি কিছু ছোট আকৃতির টিকটিকি ও কচ্ছপও এই সময়ে টিকে থাকতে পারেনি, কারণ তাদের বেঁচে থাকা পুরোপুরি সবুজ উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

স্থলভাগের তুলনায় সাগরের গভীর তলদেশ এবং নদীর পরিবেশ গ্রহাণুর প্রাথমিক ধাক্কা থেকে কিছুটা সুরক্ষিত থাকলেও, সেখানেও সূর্যালোকের অভাবে এককোষী উদ্ভিদ বা প্ল্যাঙ্কটন মারা যাওয়ায় পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। এতে বড় সামুদ্রিক প্রাণীরা অনাহারে মারা যায়। এই চরম সংকটে কেবল তারাই টিকে ছিল, যারা পানির নিচে জমে থাকা মৃত প্রাণীর পচা অংশ বা জৈব বর্জ্য খেয়ে জীবনধারণ করতে পারত। সামুদ্রিক স্পঞ্জ এবং বিশেষ প্রজাতির হাঙর ছিল এই সহনশীল প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম।

যদিও অধিকাংশ গাছপালা মারা গিয়েছিল, মাটির নিচে থাকা বা ঝরে পড়া বীজ এবং পোকামাকড় কিন্তু ধ্বংস হয়ে যায়নি। ফলে যেসব পাখি বীজ খেত এবং যেসব ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত, তাদের খাদ্যের অভাব হয়নি। চরম আবহাওয়াতেও এই খাবারগুলো নষ্ট না হওয়ায় তারা সহজেই টিকে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, যারা কেবল নির্দিষ্ট একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সবকিছু খেতে পারত, এই মহাবিপদে তাদের বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ছিল। ‘পারগেটোরিয়াস কোরাসিস’ নামের একটি ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী একই সঙ্গে পোকা, ফল ও বীজ সবই খেত। খাদ্যাভ্যাসের এই বহুমুখী গুণের কারণেই তারা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি। আজকের যুগেও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াইয়ে কাক বা র‍্যাকুনের মতো সর্বভুক প্রাণীরা এ কারণেই সহজে টিকে থাকে।

কিছু প্রাণী বেঁচে গিয়েছিল স্রেফ ভাগ্য এবং তাদের শিকারের টিকে থাকার গুণের কারণে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শক্ত খোলসযুক্ত খাবার চিবিয়ে খাওয়ার বিশেষ ক্ষমতা বা ‘ডুরোফ্যাজি’ কৌশলটি প্রাণীদের বেঁচে থাকার হার অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি দ্রুত বংশবৃদ্ধির ক্ষমতা এবং বদলে যাওয়া পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার আচরণই মূলত এই প্রাণীদের পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছিল। উল্লেখ্য, প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার প্রশস্ত গ্রহাণুর আঘাতেই পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

advertisement
advertisement

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

দেশের সমুদ্রবাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাগেরহাটের এ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরটির আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রকল্পের আওতায় বন্দরে ১০ ও ১১ নম্বর দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণের পাশাপাশি আধুনিক কনটেইনার ইয়ার্ড, উন্নত টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য ৪৯টি আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। এসব সুবিধা চালু হলে বন্দরের কার্যক্রমে গতি আসবে এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে মোংলা বন্দর।

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই উদ্যোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে আশপাশের এলাকায় শিল্পকারখানা, পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি এবং কার্যকর বন্দর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে মোংলা বন্দর ভবিষ্যতে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ, বেইজিংয়ের দিকে ঢাকার কূটনৈতিক নজর

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ, বেইজিংয়ের দিকে ঢাকার কূটনৈতিক নজর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে বেইজিংয়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে ঢাকা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

বৈঠকে লিউ হাইশিয়াং বাংলাদেশের বক্তব্য ও প্রত্যাশা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বৈঠকেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় চীনের কূটনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে এগোয়নি। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাখাইন রাজ্যের সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতা এ উদ্যোগের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তার চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য শুধু মানবিক সংকট নয়, বরং জাতীয় ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ থাকায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির কূটনৈতিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রত্যাবাসন টেকসই করতে হলে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্বের অধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা এবং স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের প্রত্যাশা, চীনের কূটনৈতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব হবে। দীর্ঘদিনের এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হলে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে এবং বাংলাদেশও দীর্ঘদিনের মানবিক ও আর্থসামাজিক চাপ কমিয়ে আনার পথ খুঁজে পাবে।

১২ দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে সরকারের বিশেষ অনুমোদন বাধ্যতামূলক

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
১২ দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে সরকারের বিশেষ অনুমোদন বাধ্যতামূলক

বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আরোপ করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ১২টি দেশে চাকরির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়োগানুমতি বা অনুমোদন নিতে হবে। এই অনুমোদন ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নামে বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না।

৪ নভেম্বর জারি করা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। পরদিন নয়, একই দিন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মূল নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদনের বাধ্যবাধকতার আওতায় রয়েছে সার্বিয়া, মলদোভা, বেলারুশ, কঙ্গো, রাশিয়া, জাপান, ইরাক, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইউক্রেন ও লিবিয়া।

বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি, শোষণ ও মানবপাচারের ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়টি এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশে নেওয়া এবং সেখানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

নতুন নিয়মের ফলে নির্ধারিত দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর আগে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র ও অনুমোদন যাচাইয়ের গুরুত্ব আরও বাড়বে। বিদেশগামী কর্মীদেরও কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারীকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগকর্তার পরিচয়, চাকরির চুক্তি, বেতন-ভাতা, ভিসার ধরন এবং সরকারি অনুমোদনের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শুধু ভিসা বা চাকরির প্রস্তাব থাকলেই বিদেশযাত্রা নিরাপদ ও বৈধ—এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।