খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

শৈশবের ঈদ: নানাবাড়ির আনন্দ আর হারানো দিনের স্মৃতি

Super Admin
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শৈশবের ঈদ: নানাবাড়ির আনন্দ আর হারানো দিনের স্মৃতি

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

আমাদের সবার জীবনে শৈশব এক বিশেষ রঙিন অধ্যায়, আর ঈদের আনন্দ সেই সময়কে আরও ঝলমলে করে তুলত। বড় হওয়ার পর সেই সোনালি দিনের ঈদকে আমরা প্রতিনিয়ত খুঁজে ফিরি। কুষ্টিয়া বন্ধুসভার একজন সদস্য তাঁর নানাবাড়িতে কাটানো শৈশবের ঈদের স্মৃতিচারণ করেছেন, যেখানে বাবার প্রবাসজীবনের কারণে তাঁর পুরো শৈশব কেটেছে।

ঈদের আগের দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত উৎসবের আমেজ। বিকেলের দিকে মামা, তাঁর বন্ধুরা, আমি, আপু এবং পাড়ার সমবয়সী ছেলেমেয়েরা মিলে হাউই ফোটানোর প্রস্তুতিতে মেতে উঠতাম। বাড়ির আঙিনার জঙ্গল থেকে বড় বড় মানকচুর পাতা সংগ্রহ করে তাতে ছোট ছোট ছিদ্র করা হতো। এরপর শুকনো নারকেলের ছোবড়া জড়িয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে সন্ধ্যায় সেগুলোকে মাঠে নিয়ে যাওয়া হতো। মামা তাতে আগুন ধরিয়ে গোল করে ঘোরালে পাতার ছিদ্র দিয়ে আগুনের ফুলকি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত, যা আমরা ছোটরা মুগ্ধ চোখে দূর থেকে হাততালি দিয়ে উপভোগ করতাম।

রাত নামতেই শুরু হতো মেহেদি পরানোর আয়োজন। খালাম্মা পরম যত্নে সবার হাতে মেহেদির নকশা এঁকে দিতেন। নতুন জামাগুলো বারবার বের করে দেখা আর আনন্দের আতিশয্যে কখন যে রাত কেটে যেত, কখন ঘুমিয়ে পড়তাম, তা টেরই পেতাম না।

ঈদের সকালে আম্মু গরম পানি দিয়ে গোসল করিয়ে নতুন পোশাক পরিয়ে দিতেন এবং আতর মেখে দিতেন। নানি তাঁর হাতের মুঠোয় গুঁজে দিতেন সালামি। এরপর নানা-মামাদের সঙ্গে দল বেঁধে ঈদগাহের পথে রওনা দিতাম। নামাজ শেষে সবাই একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতাম।

গ্রামের সেই ঈদের মাঠ, হাস্যোজ্জ্বল মুখ আর চারপাশের উৎসবমুখর পরিবেশ আজও চোখের সামনে ভাসে। মেলা থেকে বাঁশি, খেলনা, মিষ্টি আর রঙিন বেলুন কিনে আনন্দভরা মন নিয়ে বাড়ি ফিরতাম। দুপুরে সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া, গল্প আর হাসির শব্দে পুরো বাড়ি মুখরিত হয়ে উঠত, যা ছিল এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

আজ আমরা সবাই বড় হয়েছি, জীবিকার তাগিদে ছড়িয়ে পড়েছি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। খালাম্মার বিয়ে হয়েছে, ছোট মামাও সংসার পেতেছেন। তবে বড় মামা আর আমাদের মাঝে নেই, তাঁর শূন্যতা আজও প্রতিটি ঈদে শৈশবের সেই আনন্দকে এক নীরব বিষাদে ঢেকে দেয়। আজও নানাবাড়িতে গেলে পুরোনো উঠান, মাঠ আর অসংখ্য স্মৃতি বুকের ভেতর এক অদ্ভুত শূন্যতা জাগিয়ে তোলে।

advertisement
advertisement

মিরপুরে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামা শুরু, স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
মিরপুরে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামা শুরু, স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কে যানবাহন চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরের আগে মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ কিছু স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন থামানো বন্ধ রাখে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মিরপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাত্রীরা এসব স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে ওঠানামা করতে পারেননি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর দুপুরের দিকে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোতে আবারও ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুরু হয়। পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের চলাচলও স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত ছিল।

মেট্রোরেল চলাচল ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী মানুষ এবং গণপরিবহনের যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নিয়মিত যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্ক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, উদ্বেগে শিল্প খাত

Naim Hossan
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, উদ্বেগে শিল্প খাত

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে দেশের বিভিন্ন পোশাকশিল্প এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গাজীপুর, আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে কয়েকটি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমেও।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি নিয়মিত বেতন পরিশোধ ও কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের নির্ধারিত সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি পর্যালোচনায় গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের একটি নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বুধবার বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কাজ করছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে অসন্তোষ কমানো কঠিন হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প। এ শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করে মালিকপক্ষ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সমাধান এখন সময়ের দাবি।

নেপাল প্রিমিয়ার লিগে বাংলাদেশিদের পারফরম্যান্স: ব্যাট হাতে উজ্জ্বল আরিফুল ও সাইফ

Mahir Alam
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
নেপাল প্রিমিয়ার লিগে বাংলাদেশিদের পারফরম্যান্স: ব্যাট হাতে উজ্জ্বল আরিফুল ও সাইফ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর কীর্তিপুরে চলছে নেপাল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) জমজমাট আসর। এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ১০ জন ক্রিকেটার বিভিন্ন দলের হয়ে মাঠে নেমেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করছেন, কেউ বল হাতে নজর কাড়ছেন। আবার কয়েকজন এখনো নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে ফিরছেন


আইসিসির স্বীকৃতিতে নতুন মাত্রা

২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করা নেপাল প্রিমিয়ার লিগ এবার তৃতীয় আসরে পা রেখেছে। গত ১৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) স্বীকৃতি পাওয়ায় টুর্নামেন্টটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন ডেভিড ওয়ার্নার, আন্দ্রে রাসেল, ডেভিড ম্যালান, মঈন আলী ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও রয়েছেন এই তারকাবহরে। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)।


আট দল নিয়ে ৩২ ম্যাচের আয়োজন

এনপিএলের এবারের আসরে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি শিরোপার লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। দলগুলো হলো বিরাটনগর কিংস, চিতওয়ান রাইনোস, জনকপুর বোল্টস, কর্নালি ইয়াকস, কাঠমান্ডু গুর্খাস, লুম্বিনি লায়ন্স, পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স ও সুদূরপশ্চিম রয়্যালস।

লিগ পর্বে প্রতিটি দল সাতটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল প্লে-অফে জায়গা পাবে। লিগ ও প্লে-অফ মিলিয়ে এবারের আসরে মোট ৩২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সব ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে কীর্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।


বাংলাদেশিদের মধ্যে এগিয়ে আরিফুল ও সাইফ

বাংলাদেশের ১০ ক্রিকেটারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ব্যাট হাতে সবচেয়ে ভালো করছেন আরিফুল ইসলাম। কর্নালি ইয়াকসের হয়ে তিন ম্যাচে ১১৯ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১৮৮.৮৮, যা তাঁকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রেখেছে।

তালিকায় বাংলাদেশের আরেক প্রতিনিধি সাইফ হাসানও ভালো অবস্থানে রয়েছেন। জনকপুর বোল্টসের হয়ে তিন ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ১১২ রান। সর্বশেষ ম্যাচে ৭১ রানের দারুণ ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।

আরিফুল ও সাইফের ধারাবাহিক ব্যাটিং বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে অন্য বাংলাদেশি ক্রিকেটাররাও নিজেদের পারফরম্যান্সে আলো ছড়াতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।